৩৮তম BCS-এ স্বাস্থ্য ক্যাডারে অষ্টম হয়েছেন ডা. তনুশ্রী তালুকদার। তিনি হাওর অঞ্চলখ্যাত সুনামগঞ্জ শহরের মেয়ে। BCS ক্যাডার হয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণ করলেন তিনি। বর্তমানে ডা. তনুশ্রী তালুকদার সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের Medical Officer হিসেবে কর্মরত।

শহুরে জীবনে বেড়ে ওঠা তনুশ্রী তালুকদারের পড়াশোনা শুরু সুনামগঞ্জ পৌর শহরের সুনামগঞ্জ শহর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ায় প্রাইমারিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান। সিলেট বিভাগে মেধাতালিকায় ৪র্থ স্থান অর্জন করেন।তারপর এই সাফল্যকেই পুঁজি করে এগিয়ে যান তিনি।

 

সুনামগঞ্জ সরকারি সতীশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ৯ম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ নেন। পড়াশোনা চালিয়ে যান নিজের মতো করে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকেই SSC পরীক্ষা দিয়ে পান Golden GPA-5 এবং মেধাতালিকায় সিলেট বিভাগে হন ১০ম।
এরপর ভর্তি হন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে। তনুশ্রীর বাবা পেশায় একজন শিক্ষক হওয়ায় বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন সহযোগিতা। উচ্চ মাধ্যমিকেও তিনি সাফল্য ধরে রাখেন। HSC পরীক্ষায়ও Golden GPA-5 অর্জন এবং মেধাতালিকায় সিলেট বিভাগের মধ্যে ৫ম স্থান অধিকার করেন।

ছোটবেলা থেকেই তনুশ্রী স্বপ্ন দেখেছেন ডাক্তার হওয়ার। সেই সময় থেকেই নিজেকে Medical এ পড়ার জন্য প্রস্তুত করেন। Admission Test দিয়ে সুযোগ পান সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ডাক্তার হয়ে মানুষকে সেবা দেয়ার প্রত্যয়ে সাফল্যের সঙ্গে শেষ করেন পড়াশোনা।

ডা. তনুশ্রী তালুকদার জানান, তার সব সাফল্যের কৃতিত্ব বাবা রবীন্দ্র কুমার তালুকদারের। বাবার অনুপ্রেরণাকে কাজে লাগিয়ে তিনি সব কিছু অর্জন করতে পেরেছেন। কোনো রকমের বাধার সম্মুখীন না হলেও ৩৮তম BCS-এর ভাইভার সময় অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতা নিয়েই মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছেন। তার বাবা চাইতেন তিনি BCS ক্যাডার হবেন। তিনি তার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন। বাবা ও মা দুজনই তার সাফল্যে অনেক খুশি।

তনুশ্রী তালুকদার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ২০১৯ সালে। তার স্বামীও একজন চিকিৎসক। BCS’র প্রস্তুতিতে স্বামীর সহযোগিতা পেয়েছেন সবার আগে। তার এ সাফল্যে স্বামীও খুশি।

 

ডা. তনুশ্রী তালুকদার বিসিএসের জন্য দিনে ১২-১৩ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছেন।
ডা. তনুশ্রী তালুকদারের স্বামী ডা. সুরজিৎ পুরকায়স্থ বলেন, ‘আমি তনুশ্রীর সাফল্যে অনেক খুশি। সে অনেক কষ্ট করেছে যার জন্য আজকে তার এই কৃতিত্ব।

আমি ও আমার পরিবার অনেক খুশি হয়েছি। সে যেন তার ওপর অর্পিত দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করতে পারে এই কামনা করি।’

ডা. তনুশ্রী তালুকদার বলেন, ছোটবেলা থেকে বাবা আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন আমি BCS দেব। সেই স্বপ্নটা বাস্তব করতেই আমার BCS দেয়া। আমি ৩৮তম BCS এবং ৩৯তম BCS দুটোই দিয়েছি এবং দুটোতেই কৃতকার্য হয়েছি। তবে ৩৮তম বিসিএসে আমি Health ক্যাডারে অষ্টম হয়েছি। যার পুরোটা কৃতিত্ব আমি আমার বাবা ও স্বামীকে দেব। কারণ তারা আমাকে সবসময় সহযোগিতা করেছেন। আমার বাবা ছোটবেলা থেকেই আমাদের কোনো রকম কষ্ট হোক সেটা চাননি। আমি আমার এই সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে মানুষের সেবা করে যাব সবসময়।

তিনি নতুনদের উদ্দেশ্যে বলেন, BCS দেয়ার ইচ্ছা থাকলে অবশ্যই পড়াশোনায় বেশি মনোযোগী হতে হবে। আমরা Digital হচ্ছি। আমাদের Mobile, Computer আছে।

সেগুলোর ব্যবহার কম করে পড়াশোনা করতে হবে। তবেই লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.