মানুষ বিয়ের বিষয়ে বিভিন্ন স্বপ্ন দেখে। সবারই তাদের বিবাহ নিয়ে অনেক প্রত্যাশা থাকে। মেয়েদের বিয়ে হলে তাদের পুরো পৃথিবী পাল্টে যায়। তাদের প্রতিটি ছোট বড় ইচ্ছা তাদের ভবি’ষ্যতের স্বামীর সাথে যুক্ত হয়।

এমন পরি*স্থিতিতে বিয়ের পরে একে অপরের একসাথে সুখে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও একটি মেয়েকে তার স্বামী বিয়ের এক মাস পর্যন্ত কোনো সমর্থন করেননি এবং তাকে একা ফেলে রেখে চলে যায়।

মেয়েটি সাহস যুগিয়ে নিজের পরিচয় তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং সে UPSC পাস করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়েছিল।

তিনি খুব কঠোর পরিশ্রম করে’ছিলেন যার ফলশ্রুতিতে এই পরীক্ষায় তিনি ভালো নাম্বার পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে এবং তিনি আজ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণা*লয়ের একজন প্রশা’সনিক কর্মকর্তা হয়েছেন।

গুজরাটের কোমল গণত্রা তার তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড়। তার বাবা একজন শিক্ষক এবং প্রথম থেকেই তিনি কমলকে IAS অফিসার হিসেবে দেখতে চেয়ে ছিলেন। কোমল পড়া’শোনায় খুব মেধাবী ছিলেন।

প্রাথমিক পড়া’শুনায় পরে তিনি স্নাতক হন এবং এই সময়ে অধ্যয়নের গুরুত্ব পুরোপুরি উপলব্ধি করেন। এছাড়াও তিনি প্রতিযোগিতা*মূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি আরও তিনটি বিষয়ে স্নাতক হন।

200৮ সালে তিনি গুজরাট পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা উত্তীর্ণ হন এবং এরইমধ্যে NRI শৈলেশ এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি ভেবে’ছিলেন যে তার স্বামী তাকে পুরোপুরি সমর্থন করবেন কিন্তু শৈলেশ তার সাথে দেখা করতে অস্বীকার করেন।

কোমল তার স্বামীকে খুবই পছন্দ করতে এবং ভালো’বাসতে এজন্য তিনি তাকে জোর করেননি এবং চুপচাপ সহ্য করেছিলেন কিন্তু এত কিছু করার পরেও তার স্বামী তাকে বিয়ের 15 দিন পরে রেখে চলে যায়।

কোমল তার স্বামীকে পুনরায় ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং এর জন্য তিনি NEW ZEALAND’র সংসদের চিঠি লিখেছিলেন। সেখানকার প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পরে তিনি অনুভব করেছিলেন যে

তিনি যদি সেই ব্যক্তির কাছে চলেও যান তবুও তিনি সুখী হবেন না। তখন তিনি মারাত্মক ভাবে ভেঙে পড়েন।

এরপর কোমল নিজের পরিচয় তৈরি করতে স্বামীর কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করেন এবং তার পরে তার বাবার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য সংকল্পবদ্ধ হন।

কোমল এখন তার বাবার কাছে এসে এখান থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে পাড়ার লোকেরা তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করেছিল।

তারপর কিছুদিনের মধ্যে তাদের বাড়ি থেকে 40 কিলোমিটার দূরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় চাকরি পেয়েছিলেন। কোমল সেখানে থাকতে শুরু করেন এবং একইসাথে কাজ এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন।

সে গ্রামটি এতটাই প্রত্যন্ত যে সেখানে Internet তো দূরের কথা ইংরেজি নিউজ পেপার পর্যন্ত আসলো না।

 

এইসবের মধ্যেও তিনি কাজ এবং তার প্রস্তুতির মধ্যে সামঞ্জস্য রেখেছেন এবং কখনোই পরীক্ষার জন্য তিনি কোন ছুটি নেননি। তিনি কাগজ কেনার জন্য ট্রেনে করে শনি ও রবিবার দেড়শ কিলোমিটার ভ্রমণ করে আমেদাবাদ যেত এবং

সেখান থেকে ফিরে আসত। 2012 সালে যখন তিনি ইউপিএস এর মেইন পরীক্ষা ক্লিয়ার করেন তখন তিনি প্রথমবারের সাক্ষাৎ*কারের জন্য দিল্লিতে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।

শনিবার এক্সট্রা ক্লাস নিয়ে সোমবার সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হয়েছিলেন। কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যা’বসায় ফলস্বরূপ তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে IRS অফিসার হয়ে উঠতে পেরেছিলেন।

কোমল অন্যান্য মহিলাদের কেউ নিজেকে স্বামীর পত্নী হিসেবে নয় নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করতে বলেছেন।

মানুষ যে পরি’স্থিতিতে ভেঙ্গে পড়েন সেই পরিস্থিতিতে কোমল ধৈর্য, একাগ্রতা, ইতিবাচক চিন্তা’ভাবনা এবং কঠোর পরিশ্রম করে তার স্বপ্ন পূরণ করেছে। কোমল গণনার এই গল্পটি অবশ্যই সবার মনে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.